
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বনপারিল গ্রামে মাদরাসার এক ছাত্রীকে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে দুই ভাই নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে বনপারিল গ্রামের দুদুল মিয়ার মেয়ে আতিকা নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের পরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে দেয়া হয় এবং এলাকায় মাইকিং করে খোঁজ করা হয়।
পরে স্থানীয় এক কিশোরের তথ্যের ভিত্তিতে আনুমানিক ১০টার দিকে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আতিকার লাশ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, স্বর্ণের দুল ও গলার চেইন লুটের উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রাথমিকভাবে সন্দেহের ভিত্তিতে প্রতিবেশী নাঈমকে দায়ী করা হলে, তার স্বজনদের আটক করে গণধোলাই দেয় উত্তেজিত জনতা। এতে অভিযুক্ত নাঈমের পিতা পান্নু মিয়া (৪৫) ও চাচা ফজলু (২৮) নিহত হন। গুরুতর আহত হন পান্নু মিয়ার ছেলে নাজমুল (২০)। এসময় নাঈম পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। গুরুতর আহত নাজমুলকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ায় পরে তাঁকে ঢাকায় রেফার করেন কর্মরত চিকিৎসক। খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইকরাম হোসেন জানান, শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি গণপিটুনির ঘটনাতেও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহরম আলী জানান, ঘটনার রাতেই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইকরাম হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়। তিনি আরো জানান, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি বলে জানা গেছে।
Leave a Reply