1. news@banglaislamicnews.com : admin :
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
ইরানের ওপর আরোপিত যুদ্ধ ও এর পরিণতি বিষয়ে উন্মুক্ত আলোচনা ঐক্যের রাহবার : সাইয়েদ আলী খামেনেয়ী রহ. যুদ্ধ-বিরতি লঙ্ঘনের জবাবে ইসরায়েলের চারটি মেরকাভা ট্যাংক ধ্বংস করল হিজবুল্লাহ মানিকগঞ্জে মাদরাসাছাত্রী হত্যার ঘটনায় গণপিটুনিতে দুই ভাই নিহত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করেন লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর : ইরানের কূটনীতি ও হিজবুল্লাহর প্রতিরোধের যৌথ সাফল্য ‘আইআরজিসির অনুমোদন ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না’ সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধা দিলে ভিসা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র ঢাকায় যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল ‘ইরান-সৌদি সম্পর্ক ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে’

লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর : ইরানের কূটনীতি ও হিজবুল্লাহর প্রতিরোধের যৌথ সাফল্য

  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১১৩ বার পড়া হয়েছে

লেবাননে ঘোষিত ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিকে ‘বড় কূটনৈতিক সাফল্য’ হিসেবে দেখছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। তেহরান বলছে, এই অগ্রগতি এসেছে তাদের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ এবং আঞ্চলিক ঐক্যের ফল হিসেবে, যেখানে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে।

গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেছেন, লেবাননে আগ্রাসন বন্ধ হওয়া ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বৃহত্তর যুদ্ধবিরতি সমঝোতারই অংশ। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনাসহ বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগে ইরান শুরু থেকেই পুরো অঞ্চলে, বিশেষ করে লেবাননে, একযোগে যুদ্ধবিরতির ওপর জোর দিয়ে এসেছে।

বাকায়ির ভাষায়, “এই অগ্রগতি তেহরানের অব্যাহত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সরাসরি ফল।” তিনি লেবাননের জনগণের ‘অসাধারণ ধৈর্য’ এবং প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন, যারা ইসরায়েলি আগ্রাসনের মুখে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।

ইসমাইল বাকায়ি পাকিস্তানের নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটির কার্যকর ভূমিকা ১০ দিনের এই যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একই সঙ্গে তিনি লেবাননের শহীদদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং দেশটির জনগণ ও সরকারের প্রতি ইরানের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

এদিকে, ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ বলেছেন, “লেবাননে যুদ্ধবিরতি হওয়া শুধু হিজবুল্লাহর দৃঢ়তা এবং প্রতিরোধ জোটের ঐক্যের ফলেই সম্ভব হয়েছে। আমরা এই যুদ্ধবিরতিকে সতর্কতার সঙ্গেই দেখব। বিজয় পুরোপুরি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা একসঙ্গে থাকব।”

তিনি পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে -এর মধ্যস্থতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। কলিবফ আরও বলেন, “আমরা আমাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে দৃঢ় থাকব।”

অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি ও প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সদস্য আলী আকবর আহমাদিয়ান বলেছেন, “লেবাননের জনগণের সাহসী প্রতিরোধ এবং হিজবুল্লাহর সংগ্রাম শেষ পর্যন্ত জায়নবাদী শত্রুকে পশ্চাদপসরণ ও যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য করেছে।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিরোধকে সমর্থন করা ইরানের একটি মৌলিক কৌশলগত ও প্রতিরক্ষামূলক নীতি। “শহীদদের রক্ত এবং শহীদ নেতাদের আত্মত্যাগের কারণে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ আজ আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী ও অটল,”—যোগ করেন তিনি।

ইরান বলছে, এই যুদ্ধবিরতি এখন ন্যায়বিচার ও স্থায়ী স্থিতিশীলতার পথ খুলে দিতে হবে। এর মধ্যে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, সব বন্দির মুক্তি, বাস্তুচ্যুতদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং আন্তর্জাতিক সহায়তায় পুনর্গঠন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া ভাষণে এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন এবং জানান, লেবাননের স্থানীয় সময় মধ্যরাত থেকে এটি কার্যকর হয়েছে।

লেবাননের ‘লয়্যালটি টু দ্য রেজিস্ট্যান্স’ ব্লকের এক সংসদ সদস্যও যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং এটিকে ইরানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফল বলে উল্লেখ করেছেন।

হিজবুল্লাহর এমপি হুসেইন হাজ হাসান বলেছেন, “ট্রাম্প ইরানের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছেন এবং নেতানিয়াহুকে লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হতে বাধ্য করেছেন।”

তিনি বলেন, “আমাদের শত্রু বিশ্বাসঘাতক, এবং আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, কারণ তারা বর্তমান যুদ্ধবিরতি ইতোমধ্যে কয়েকবার লঙ্ঘন করেছে।”

উল্লেখ্য, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ৪০ দিনের উত্তেজনা শেষে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পরও ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের বেসামরিক এলাকায় হামলা চালিয়ে তা লঙ্ঘন করে। সব ফ্রন্টে হামলা বন্ধ রাখা ছিল ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননের এই যুদ্ধবিরতি কেবল একটি সাময়িক সমঝোতা নয়, বরং এটি আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য ও কূটনৈতিক প্রভাবের নতুন বাস্তবতাও তুলে ধরছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
Copyright ©banglaislamicnews.com
Theme Customized By BreakingNews