ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে সউদী আরবের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা ও লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, সউদী আরবে ১০০-এর বেশি মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা কাজ করছেন। তাদের মূল কাজ হলো গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া এবং হুতিদের অবস্থান শনাক্ত করে হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সউদী বাহিনীকে সহায়তা করা।
কী ধরনের সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?
মার্কিন সামরিক সদস্যরা সম্প্রতি গঠিত একটি যৌথ বাহিনী কমান্ডের আওতায় কাজ করছেন। এই কমান্ড কয়েক সপ্তাহ আগে গঠন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সউদী আরবকে এমন একটি প্রযুক্তি ব্যবহারে সহায়তা করছে, যার মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে কী ঘটছে তা প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যায়। এটি পেন্টাগনের ‘ম্যাভেন’ ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া হুথিদের ওপর হামলার জন্য ভৌগোলিক তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্য নির্ধারণেও সউদী আরবকে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই সহায়তার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সউদী আরবের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করলেও সরাসরি হামলায় অংশ নিচ্ছে না। সউদী যুদ্ধবিমানকে জ্বালানি সরবরাহ বা অন্যান্য সামরিক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে না।
সউদী আরব ও হুথিদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে লড়াই আরো তীব্র হয়েছে। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর এটিকে সবচেয়ে বড় ধরনের সংঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার হুতিরা লোহিত সাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর দখল করেছে। এতে লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগরের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল হুমকির মুখে পড়তে পারে। এর আগে সউদী আরবেও হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। এতে কয়েক ডজন বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
ইরানের ভূমিকা নিয়ে মার্কিন উদ্বেগ
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইয়েমেনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কয়েকশ সদস্য রয়েছে। তারা হুথিদের সঙ্গে কাজ করছে বলে যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, হুথিদের সহায়তায় ইরান শেষ পর্যন্ত বাব আল-মান্দাব প্রণালি বন্ধ করার চেষ্টা করতে পারে। এই নৌপথ বন্ধ হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও সম্প্রতি ইয়েমেনে আইআরজিসির উপস্থিতির বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য থাকার কথা জানিয়েছেন। তার মতে, সউদী আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় সাম্প্রতিক হুতি হামলায় ইরানের ভূমিকা রয়েছে।
অতীতের অভিজ্ঞতা নিয়ে সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র
হুতিদের বিরুদ্ধে সউদী আরবের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অবশ্য নতুন নয়। ওবামা ও ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও ওয়াশিংটন সউদী বাহিনীকে গোয়েন্দা তথ্য ও হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করেছিল। তবে ওই সময়ের অভিযানে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র নিজেও কয়েক মাস হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। পরে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সেই অভিযান বন্ধ করা হয়। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের একাংশ মনে করেন, ওই অভিযানের শেষ করার স্পষ্ট পরিকল্পনা ছিল না।
একাধিক যুদ্ধে চাপে মার্কিন বাহিনী
ইরানের সঙ্গে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীও এখন চাপে রয়েছে। মার্কিন সেনারা নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়ছে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে সেনা মোতায়েন এবং অস্ত্রের মজুত নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতেও যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। সেখানে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা, বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়া এবং ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রাখার কাজ করছে মার্কিন বাহিনী।
এ অবস্থায় সউদী-হুথি সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র কতটা জড়াবে, তা নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যে সতর্কতা রয়েছে। বিশেষ করে কোনো হামলায় বেসামরিক মানুষ হতাহত হলে অতীতের মতো আবারও যুক্তরাষ্ট্র সমালোচনার মুখে পড়তে পারে। সূত্র : সিএনএন।
Leave a Reply